চেঙ্গিস খানের ভয়ংকর যত কীর্তি। Notorious Things about Genghis khan.

ghengis khan
By SebacalkaOwn work, CC BY-SA 4.0, Link

চেঙ্গিস খান, ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও ভয়ংকর বিজেতা ছিলেন। তিনি তার সম্রাজ্য মঙ্গোলিয়া থেকে এতোটাই বিস্তৃত করেন যে তা প্রায় আফ্রিকা মহাদেশের সমান বড় হয়ে যায়। তিনি একাধারে যেমন শিক্ষা ও রাস্তাঘাটের উন্নতি করেছিলেন আরেক দিকে তার কার্যকলাপ অনেক সময় ছিল ভয়ংকর ও মায়াদয়া হীন।

আজকের আর্টিকেলে আপনাদেরকে চেঙ্গিস খানের ভয়ংকর সব কীর্তির কথা বলব যা শুনলে আপনি শিউরে উঠবেন।

 

১। চেঙ্গিস খানের প্রতিশোধ পরায়নতার উদাহরন দিতে গেলে বলতে হবে খারেজমিডের গভর্নরের উপর তার প্রতিশোধের কথা। খারেজমিডের উপর দিয়ে চেঙ্গিস খানের একটি ব্যবসার বহর যাওয়ার সময় অই এলাকার গভর্নর ওই বহরকে আটক করে এবং লোকজনকে হত্যা করে। এই ঘটনা শোনার পড়ে চেঙ্গিস খান ১০ হাজার সৈন্য  নিয়ে খারেজমিড আক্রমন করে। অনেক হত্যাকান্ডের পরে তিনি সেই গভর্নরের কান, নাক ও চোখের মধ্যে রুপা গলিয়ে সিল করে দেন। তাতেও তার রাগ কমেনি। সেই গভর্নরের জন্ম যেই গ্রামে তিনি সেই গ্রামের উপর দিয়ে একটি নদীর পথ পরিবর্তন করে গ্রামটিকে চিরদিনের মত মানচিত্র থেকে মুছে দেন।

২। চেঙ্গিস খান এতোটাই ভয়ংকর ও গরম মাথার মানুষ ছিলেন যে তিনি তার শাসনামলে ৪ কোটিরও বেশী মানুষ হত্যা করেন। কখনো এমনও হয়েছে কোন গ্রাম বা সহরের কেউ যদি তার বিরুদ্ধে যেত তিনি গ্রামের সব মানুষকে হত্যা করতেন।

৩। চেঙ্গিস খানের নিজের সম্রাজ্য বাড়ানোর একটা অদ্ভুত কৌশল ছিল। তিনি তার কন্যাদের তার বন্ধু রাষ্ট্রের রাজাদের সাথে বিয়ে দিতেন। এবং বিয়ের পরে সেই রাজাকে এমন এক যুদ্ধে পাঠিয়ে দিতেন যেখান থেকে সে কখনো ফিরে আসবে না। এভাবেই সে তার নিজের মেয়েকে অন্য রাষ্ট্রের রানী হিসেবে বসিয়ে দিতেন।

৪। চেঙ্গিস খান যখন রাশিয়া জয় করেন তখন সেই জয় অনেক কষ্টে আসে। তার পক্ষের ও বিপক্ষের অনেক সৈন্য মারা যায়। কষ্ট করে পাওয়া জয় উদজাপন করতে চেঙ্গিস খান অভিনব একটা পন্থা নেন। তিনি বেঁচে থাকা রাশিয়ান সৈন্যদের মাটিতে শুইয়ে তাদের উপর একটা মঞ্ছ তৈরি করেন এবং তার উপর নিজের জয় উদজাপন করেন আর নিচে রাশিয়ান সৈন্যরা পিষ্ট হয়ে মারা যেতে থাকে।

৫। চেঙ্গিস খানের সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড নেমে আসে ইরানের উপরে। চেঙ্গিস খান ইরান দখল করে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড চালায়। এই গণহত্যায় ইরানের জনসংখ্যা এত কমে যায় যে সেই জনসংখ্যা পুরন হতে ইরানের ৮০০ বছর লাগে।

৬। চেঙ্গিস খান যখন বাগদাদ আক্রমন করে তখন বাগদাদ ছিল ইসলামিক স্বর্ণযুগের জ্ঞান ও বিজ্ঞানের একটা প্রাণভূমি। চেঙ্গিস খান ইরাক বাগদাদ আক্রমন করে এত ধ্বংস ও লূটতরাজ চালায় যা অকল্পনীয়। অনেক ঐতিহাসিক বলেন তার ধ্বংসযজ্ঞে টাইগ্রিস নদীর পানি কলমের কালি এবং বইয়ের কালিতে কালো হয়ে গিয়েছিল। আর অনেকেই বলে থাকেন এটাই ছিল ইসলামিক স্বর্ণযুগের অবসান।

৭। বেশীরভাগ যুদ্ধেই মঙ্গলদের প্রতিপক্ষ থেকে কম ছিল। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের উপর প্রভাব বিস্তার করতে তারা মঙ্গল সৈন্যের পোশাক পরিয়ে ঘোড়ার উপর পুতুল বসিয়ে রাখত যাতে শত্রুপক্ষ ভয় পায় যে তারা অনেক বড় বাহিনীর মোকাবেলা করছে।

৮। চেঙ্গিস খান তার ভাইকে হত্যা করে সে তাকে খাবারের ভাগ না দেয়ার কারণে। একদিন রাতে চেঙ্গিস খান ও তার ভাইয়ের ঝগড়া হয় কারণ তার ভাই তাকে খাবারের ভাগ দেয়নি। চেঙ্গিস খান সেই ছোট ঝগড়াকে বড় করে তুলেন এবং তার ভাইকে হত্যা করে প্রতিশোধ নেন।

৯। চেঙ্গিস খান নিজের ছবি পেইন্ট করা বা খোঁদাই করার ঘোর বিরোধী ছিলেন। তার প্রথম খোঁদাই করা ছবি প্রকাশ পায় তার মৃত্যুর পরে।

১০। মঙ্গলদের নিয়ম ছিল তারা কোন অভিজাত বা রাজবংশীয় কারো রক্ত মাটিতে পড়তে দিতে পারতোনা। কিন্তু চেঙ্গিস খান যখন মনে করত এদেরকে তার হত্যা করা লাগবে সে কোন না কোন একটা উপায় বের করত কিভাবে তাদের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানো যায়।

চেঙ্গিস খান পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান ও শক্তিশালী মানুষ ছিলেন। তার ছিল শক্তিশালী সেনাবাহিনী যারা ইচ্ছা করলে যেকোন দেশ দখল করতে পারত। কিন্তু তাদের অত্যাচার ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য তারা এখন ইতিহাসে ঘৃণিত হয়ে আছেন।

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করবেন। আর আগামীর কথার ফেসবুক পেজে লাইক দিবেন। এরকম আরো লেখা পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *