কি-স্টোন হেভিট কি? এবং তিনটি জীবন বদলে দেওয়া অভ্যাস। Keystone habits and 3 life changing habits.

কি-স্টোন হ্যভিটস বলতে বুঝায় এমন কিছু অভ্যাস যা আপনি শুরু করলে পাশাপাশি আরো কিছু ভাল অভ্যাস এমনিতেই শুরু হয়ে যায়। কিভাবে ?? বলছি, তার আগে চলুন একটি গল্প শুনি- মোশারফ করিম সাহেব একটি প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরী করেন, দেখতেও স্মার্ট। মোটামুটি ভালই বেতন পান , চেয়ারে বসে বসে পেটে একটু ভুড়িও জমিয়ে নিয়েছেন। কমবেশি সবার জীবনেই ছোট বড় এডিকশান বা নেশা থাকে। তেমনি বেচারা মোশারফ করিমের এডিকশান ছিলো স্মোকিং । যদিও সে জানে তবুও দিনে ৭-৮টা সিগারেট তার লাগতোই। কিন্তু একদিন তার জীবনে আসলো তার স্ত্রী তিশা , কিন্তু সমস্যা হলো তিশা স্মোকিং মারাত্মক অপছন্দ করে। শত ঝগড়াঝাটি আর ঘাড়তেড়ামির পর মোশারফ ভাবে “আসলেই তো জিনিশটা খারাপ, সে তো ঠিকই বলছে। নিজের ভালোর জন্যই জিনিশটা ছাড়া উচিত।” সে এক বছরের মধ্যে এই অভ্যাসটি পুরোপুরি বাদ দিতে পারলো। যদিও অভ্যাস পরিবর্তন করা অনেক কষ্টের তারও কষ্ট হওয়ার কথাই ছিল। কিন্তু সে কষ্ট টা কম করতে করিম নিজের মধ্যে নতুন কিছু অভ্যাস গড়ে তুললেন। যেমন সিগেরেট ছাড়ার শারীরিক ইফেক্ট গুলো ইগনোর করতে জিম জয়েন করেছিলেন । প্রতিদিন অল্প অল্প করে কিছু বই পড়ছিলেন। এক বছর পর করিম সাহেব দেখলেন তার অভ্যাস এবং শরীরে এক অভূতপূর্ন পরিবর্তন এসে গেছে, হাল্কা বেড় হয় আসা ভুড়িটাও গায়েব হয়ে গেছে। পাঁচ বছর প্রথম প্রমোশন পেলেন । অফিসের কলিগরাও তার প্রতি খুশি। আর তিশা ? বলুন তো কি হতে পারে?? ভুল ভাবছেন , বউ কোনদিন খুশি হয়না(হা হা হা ।জাস্ট কিডীং)। করিমের এই উন্নতিতে তাদের সয়াংসারিক লাইফও সহজ ,সুন্দর, এবং সুখী হলো । কিভাবে এসব হলো তা নিচে তিনটি কি-স্টোন হেভিট আলোচনা করলেই আপনার কাছে পরিস্কার হয়ে যাবে। আজকের তিনটি কি-স্টোন হ্যাভিট হলো –

১। বই পড়া
২। মেডিটেশান

৩। ফিটনেস

 

reading
বই পড়াঃ  জ্ঞানার্জন করা জন্যবইপড়া খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয়এবং পাশাপাশি মজাদারও বটে। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় চেঞ্জ না থাকায় এবং বাস্তব্জীবনে প্রয়োগ না থাকায় আমরা আসলে সে মজাটা পড়া থেকে হারিয়ে ফেলি। আপনিই বলুন, আপনি যদি এখন একটা চাকুরি তে থেকে থাকেন তবে বীজ গনিত বা ইতিহাসে শিখা শায়েস্তা খাঁর আমলের ৩টাকার গরু আপনার কোন কাজে আসছে ?কিন্তু এখানেই যদি “সোসাল সাইন্সের” বদলে সোসাশাল স্কিলস শেখানো হতো , ফিটনেস , নিউট্রিশান , মানি ম্যনেজমেন্ট শিখানো হতো হয়তো আমাদের ক্লাস গুলো এতোটা বোরিং হতো না। তাই এখন যখন আপনি এই বিষয় গুলোর উপর বই পড়বেন , আটোমেটিকালিই সেগুলা প্রয়োগ আপনি  আপনার বাস্তব জীবনে নিজের অজান্তেও করে ফেলবেন। আর তাতেই দেখবেন আপনার চারপাশ এবং নিজের অবস্থাও আগের চেয়ে ভাল মনে হবে। যেমন আপনি যখন বডি লেঙ্গুয়েজের উপর কোন বই পড়বেন তখন আপনি কোন অবস্থায় আপনার বডি লেঙ্গুয়েজ কেমন হওয়া উচিত সে বিষোয়ে জেনে যাবেন ,চাইলেও কারো জানাযায় গিয়ে V সাইন দেখিয়ে সেলফি তুলতে পারবেননা তখন। যদি আপনি মানি ম্যণেজমেন্ট এর উপর কোন বই পড়তে থাকেন , তবে নিজেকে অহেতুক খরচ থেকে বাচিয়ে রাখবেন । যেমন করিম সাহেব হয়তো অফিস ম্যানেজমেন্ট এন্ড বিহেভিয়ারের উপর বই পড়ছিলেন । তাতে তার অভ্যাস পরিবর্তন হওয়ার পাশাপাশি অফিসের বস এবং বাকি সবাইও তার উপর খুশি হয়ে যায়।
meditation

২। মেডীটেশানঃ আসলে সত্যি কথা বলতে উপরে দুইটি কি-স্টোন অভ্যাস নিজের জীবনে চর্চা করলেও এই অভ্যাস্টি এখনো চর্চা করা হয়নি তাই কেতাবী গবেষোকদের ভাষাই বলতে হবে। মেডিটেশান হচ্ছে সবচেয়ে পাওয়ারফুল কি-স্টোন হ্যাভিট। আপনি জিমে আপনার বডিতে যেমন পরিবর্তন আনছেন ,ভুড়ি গায়েব করে সিক্স প্যাক আনছেন । তেমনি রেগুলার মেডিটেশান আপনার ব্রেনের সিক্স প্যাক তৈরি করতে সহায়তা করে, জীবনে প্রশান্তি আনে। পৃথিবীর যত বড় বড় মনিষী , ধর্ম প্রচারকগণ ছিলেন সবাই একটা সময় মেডিতেশানের মধ্যে দিয়েই গেছেন । আমার এই ব্যাপারে জ্ঞান কম তাই এখানে অফ যাচ্ছি ।

 

৩। ফিটনেসঃ ২য় টা আলোচনা না করে ৩য় টা কেন আলোচনা করছি ??  কারন সেই একটাই ,এখানে আমাদের মোশারফ করিম সাহেব আছেন ২য় টা তে নেই , তাই।  আমাদের গল্পে আমরা দেখেছিলাম করিম সাহেব জিম জয়েন করেছিলেন। এক্সারসাইজ এমন একটা অভ্যাস যে এটি অন্য কয়েকটি ভাল অভ্যাস যোগ করাতে বাধ্য করবে আপনাকে । আপনি যখন নিয়মিত ব্যায়াম করবেন আপনার ক্ষুধা বাড়বে , আপনি পরিমিত খাবার গ্রহন করবেন। রাতে ঘুম ভাল হবে এবং সকালে চনঅমনে রিফ্রেশ মাইন্ড নিয়ে ঘুম থেকে উঠবেন ।আগের চেয়ে পরিমাণে পানি বেশি খাওয়া লাগবে তাতেও শরীর সতেজ হবে। যেমন করিম সাহেব যখন সিগারেট ছেড়ে জিমে ভর্তি হলেন তখন টং এর দোকানে গেলে একটা সিগেরেট কিনার বদলে কলা কিনে খেতেন। কারন সব জিম ইন্সট্রাক্টররাই প্রতিদিন কলা খাওয়ার নির্দেশনা দেন । এভাবে ব্যায়াম শুরু করার মাধ্যমে আপনি আরো ভাল কিছু অভ্যাস নিজের ভিতর নিয়ে নিচ্ছেন।

আজকে এ পর্যন্তই। তবে কখনোই একাধিক কি-স্টোন হ্যভিট একসাথে চালু করবেন না। কারন আমরা মোশারফ করিম এর মতো সুপার হিরো না। একেকটা কি-স্টোন হ্যাভিট আয়েত্ত করে পরে আরেকটি ধরবেন । তাহলে উইল পাওয়ার ধরে রাখা সহজ হবে। সবাইকে ধন্যবাদ । ভাল লাগলে LIKE & SHARE  করবেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *