বয়স যদি হয় ১৬-২৫ তবে এই আর্টিকলটি আপনার জন্যই | career tips for 16-25 years old.

career for 16-25 years old

জীবনের এই সময়টা একজন মানুষের জন্য বিশেষ করে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একজন ছেলের জন্য খুবই ক্রিটীকাল এবং ভেবে-চিন্তে পদক্ষেপ নেয়ার বয়স। এই সময়ে নেয়া আমাদের সিদ্ধান্ত অনেক সময়ই আমাদের পরবর্তী জীবনের রাস্তা এবং ভাগ্য তৈরি করে দেয়। বলে দেয়, আমাদের জীবনের বাকি অংশ আমাদের জন্য কি সুখ বয়ে আনবে নাকি দুঃখ। ১৬ বছরের আগের জীবনটা আমরা সাধারণ ক্ষেত্রে কোনরকম টেনশান বা বড় কোন সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়াই কাটইয়ে দিতে পারি । বড় বড় সিদ্ধান্ত গুলো বাসার কর্তারাই নিয়ে আমাদের রেহাই দেন। কিন্তু ১৬ বছর বয়সে এসে আমাদের প্রথম আমাদের নিজেদের জন্য রাস্তা পছন্দ করতে হয়। বাড়ির কর্তারা এই বাপারে গাইডলাইন দিলেও শেষ সিদ্ধান্তটা নিজেদের উপরেই থাকে। আর তা হচ্ছে কোন বিষয়ে পড়বো ?? সাইন্স, আর্টস , নাকি কমার্স ? কিন্তু চারদিক থেকে আসা বিভিন্ন পরামর্শে আমরা হয়ে যাই দিশেহারা। তাই সাবজেক্ট এবং ক্যারিয়ার নির্বাচন করতে মাথায় রাখতে হবে এই বিষয় গুলোঃ

১। ইচ্ছাকে গুরত্ব দিনঃ আমরা প্রায়ই যে ভুলটা করি তা হচ্ছে ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে দেই। যেমন যখন CSE এর ট্রেন্ড চলছে সবাই তার পিছনে ছুটি , আবার যখন EEE এর ট্রেন্ড চলে তখন সবাই সে সাবজেক্টের পিছে দৌড় দেই। ভাবখানা এমন যে, “৪ বছরের কোর্সটা শেষ হতে দেরি,আর কম্পানিরা আমায় লুফে নিবে” কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। যখন আপনি সেটি করে বের হবেন, দেখবেন ততদিনে সে ফিল্ডে জবের চেয়ে কেন্ডিডেট অনেক বেশি। কারন সবাই আপনার মতোই ভেবেছে। তাই আপনার উচিত কোন সাব্জেক্টের কি চাহিদা তা দেখার আগে আপনি কিসে আগ্রহ পান সেটা খুজে বের করা। এখন বলতে পারেন সে ফিল্ডে কি কপিটিশান থাকবেনা?? অবশ্যই থাকবে। কিন্তু সেই ফিল্ডে কাজ করতে আপনার মত মজা সবাই পাবেনা। তাই আপনার মতো এক্সপার্টিসও অর্জন করতে পারবেনা। তাই আপনি সে দৌড়ে এগিয়েই থাকবেন।

২।আমার কি ভাল লাগে বুঝিনাঃ আমাদের অনেকের মাঝেই এই সমস্যাটা আছে। অনেকের বললে ভুল হবে, সবার মধ্যেই একটা সময় এই জিনিশাটা কাজ করে যে, আমি কি চাই বা ভাল লাগে তাই বুঝিনা। যখন কেউ এই সাবজেক্টের ক্যারিয়ার ভাল বলে তখন এটাই ভাল লাগে ,যখন আবার কেউ অন্য একটা সাবজেক্ট এর ক্যারিয়ার ভাল বলে তখন সেটাই ভাল লাগে। সময়ে সময়ে তা চেঞ্জ হয়। এখন সমাধান হচ্ছে আপনাকে মনযোগ দিয়ে নিজের সাথে নিজেকে বুঝতে হবে। যেমন যদি এমন হয় যে , আপনি যুক্তি-তর্ক দিয়ে বন্ধু বান্ধব এর সাথে খুব সুন্দর তর্ক জিতে আসতে পারেন, তাহলে আপনি আইন-পেশায় যেতে পারেন। যদি ধরুন বন্ধুবান্ধব এর পিকনিকের প্ল্যান নিজে করে তা কম খরচে শেষ করে আসতে পারেন , সেখানে আপনি “বিজনেস-ম্যানেজমেন্ট” জাতীয় কোন পেশায় যেতে পারেন। নিজের ছোট ছোট ভাললাগা বা গুণ গুলো কাজে লাগিয়েই আপনি বের করতে পারবেন আপনার কি ভাল লাগে।

৩।নানা মুনির নানা মতঃ আপনার এই সময়টা তে সবাই বিভিন্ন কিছু করার উপদেশ দিবে। ব্যাপারটা এমন নয় যে তারা আপনার খারাপ চায়। কিন্তু তারা আপনাকে যে আইডিয়া এবং উপদেশ দিবে তা তিনি তার পারিপার্শীক অবস্থা এবং জ্ঞানের ভিত্তিতেই দিবে। তাই যে যা আইডিয়াই দিক, হাসিমুখে শুনবেন। কিন্তু ফলো করবেন শুধু তাদেরটাই যারা আপনার পছন্দের বা টার্গেটেড ফিল্ডের সফল মানুষ।

৪।নিজের স্কিল ডেভেলপ করুনঃ জীবনে নতুন নতুন কিছু শিখার সবচেয়ে মোক্ষম সময়টা হচ্ছে এখন। এখন ব্রেন এবং শরীর দুটোই নতুন নতুন জিনিশ শিখতে উৎসাহ দেয়। শুধু মাঝে মাঝে চঞ্চল মনটা একটু বাধা দেয়। সেই বাধাটুকু কাটইয়ে উঠতে পারলেই আপনি এই বয়সেই সফল। স্কিল ডেভেলপ এর মধ্যে বভিন্ন কিছু হতে পাড়ে, কম্পিউটার কোর্স হতে পাড়ে, কোন অফিস স্কিল হতে পাড়ে, এমন কি কোন বাদ্যযন্ত্র বাজানোও হতে পারে। আর এগুলা শিখতে শিখতে আপনি পেয়ে যেতে পারেন “ আপনার কি ভালো লাগে” ।

৫।অযথা খরচ বাদ দিতে চেষ্টা করুনঃ  এই বয়সে অনেক অহেতুক জিনেশের প্রতিই আকর্ষণ থাকে। যেমন দামী একটা মোবাইল , যা না হলেও চলে। দামী ল্যাপ্টপ কিংবা বাইক। যদিও “শখের তোলা আশি টাকা” কিন্তু একটা সময় গিয়ে সে টাকা খরচ গুলোকে বোকামী মনে হবে, খুব একটা আফসোস না হলেও মনে হয় সেটা দিয়ে যদি আরো জরুরী কিছু বা কাজের কিছু করতাম তবে ভাল ফল পেতাম।

আজকে এ পর্যন্তই। আপনার মতে, এই বয়সে আরো কি কি বিষয় মাথায় রাখা উচিত এবং কি কি বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত তা Comment করে জানান। আমরা তা SHARE করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *