ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষ্ক্রিয়ার এর ৭টি লক্ষণ

আমরা সচরাচর সকলেই ফুড পয়জন শিকার হয়েছি, সাধারণত বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা, কপাল ঘেমে যাওয়া সহ আরো কত কি লক্ষণ প্রকাশ পায় এ রোগটি হলে। আমাদের দেশেও প্রায় প্রতি বছর ফুড পয়জনিং বা খাদ্যের বিষ্ক্রিয়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পরেন। তবে এর লক্ষণ গুলো অন্য কিছু রোগের সাথে মিলে বলে রোগটি সনাক্ত করতে অনেকেই কনফিউসড হয়ে যান। তাই আজকের আর্টিকেলের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে যেন সহজেই আপনি বুঝতে পারেন আপনার ফুড পয়জন হয়েছে, নাকি অন্যকিছু। চলুন শুরু করা যাক,

১. ঘামঃ
সকলের মতে ফুড পয়জন সাধারণত পেট খারাপ এর মাধ্যমে প্রথমে প্রকাশ পেয়ে থাকে কিন্তু আসলে এর প্রথম উপসর্গ হলো ঘাম। আপনার যদি নির্দিষ্ট সময় পরপর ঘাম হয় এবং এর দরুন যদি সামান্য জ্বর অনুভূত হয় তাহলে আপনি সন্দেহজনক কিছু খেয়েছেন কিনা তা মনে করার চেষ্টা করুন।ফুড পয়জন এবং ফ্লু রোগেরউপসর্গ অনেকটা একরকম হওয়ায় অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে তাই ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে সঠিক তথ্য জানুন

২. গ্যাসঃ
পেট ব্যথা এবং পেটে গ্যাস হওয়া ফুড পয়জন এর একটি অন্যতম লক্ষণ। একাধিক বার টয়লেটে যাওয়া সহ পেট ব্যথার লক্ষণ প্রকাশ পেলে আপনাকে বুঝতে হবে আপনি ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা আক্রমণের শিকার হয়েছেন, আর এই লক্ষণ প্রকাশ পেলেই আপনাকে অতিসত্বর ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

৩. বমি বমি ভাব এবং বমিঃ
বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া ফুড পয়জন এর সাধারন একটি লক্ষণ। সাধারণত এই লক্ষণটি ব্যাকটেরিয়ার সক্রিয়তার উপর ভিত্তি করেই প্রকাশ পেয়ে থাকে যেমন ধরতে গেলে লিস্ট আরিয়া ব্যাকটেরিয়া যা বেশিরভাগ হ্যামস ,দুধ এবং নরম চিজ এর মত খাবার গুলোতে পাওয়া যায় এই ব্যাকটেরিয়া যুক্ত খাবার খাওয়ার ৭০ দিনের মধ্যেও এই লক্ষণটি প্রকাশ পেতে পারে।

৪. ডায়রিয়াঃ
ফুড পয়জন এর অন্যতম একটি সাধারণ লক্ষণ হল ডায়রিয়া আর এ ডায়রিয়া আপনার কি ফ্লু এর মাধ্যমে হয়েছে না ফুড পয়জন এর মাধ্যমে হয়েছে তা আপনি কিভাবে জানবেন? ফ্লু এর মাধ্যমে ডায়রিয়া হলে তা হবে জল ডায়রিয়া আর তা যদি ফুড পয়জন এর মাধ্যমে হয় তাহলে তা হবে রক্তাক্ত ডায়রিয়া। আর এই উপায় এই আপনি দুইটি রোগের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাবেন।

৫. জ্বরঃ
লিস্টোরিয়া এবং ক্যাম্পাইলব্যাক্টরের মত কিছু ব্যাকটেরিয়া দ্বারা জ্বর সৃষ্টি হয়ে থাকে। এটি সাধারণত পাচক সমস্যার দরুন সংগঠিত হয়ে থাকে। ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জ্বর থাকলে অতিসত্বর ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

৬. কনফিউশনঃ
যখন আপনি কিছুটা বিভ্রান্ত বোধ করেন, সাধারণত লিস্টেরিয়ায়
এই উপসর্গ হতে পারে এবং এটি সম্পূর্ণ রূপে প্রকাশ পেতে সর্বোচ্চ দুই মাস সময় লাগতে পারে। আর এই দুই মাস সময় কালের ভিতরে শরীর দুর্বল অনুভূত হওয়া এবং আপনার গলা শক্ত মনে হওয়া খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার।

৭. ডিহাইড্রেশনঃ
যখন আপনি সন্দেহ করবেন যে আপনার ফুড পয়জন হয়েছে , এছাড়াও উপরে বর্ণিত লক্ষণগুলোর মধ্যে একাধিক লক্ষণ প্রকাশ পেলে তখন আপনাকে যা করতে হবে তা হল ফুড পয়জন সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপনাকে ডিহাইড্রেশন করতে হবে।প্রচুর পানি পান করার চেষ্টা করুন এবং ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল যুক্ত মিষ্টি পানীয় থেকে দূরে থাকুন। এছাড়াও এর পাশাপাশি হালকা খাবারের মত ছোট ছোট খাবার, কলা ,সাদা চাল বা রুটি খেতে হবে।

নিয়মিত আমাদের পোস্ট গুলো পেতে আমাদের সাথে ফেসবুক এবং টুইটারে সংযুক্ত থাকুন। এবং প্রতিদিন ভিসিট করুন আমাদের সাইট আগামীর বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *